হোম > সারা দেশ > সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, ফুটেজ দেখে চলছে আসামি শনাক্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ এমপির গাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে রায়গঞ্জ থানায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আজ রোববার রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ধানগড়া বাজারে একটি জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বের হওয়ার সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এমপি আয়নুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া লাইভে এমপি আয়নুল হক হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে দায়ী করেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিবৃতিতে সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম এবং রায়গঞ্জ উপজেলা আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী।

যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগেরও তাঁরা প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করা উচিত। মিথ্যা, অনুমাননির্ভর বা উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করা কারও কাম্য নয়। হামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘ওই হামলার ঘটনায় রাতেই একজন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’