হোম > সারা দেশ > সিরাজগঞ্জ

নাটোরের গুরুদাসপুর: গুমানী নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আনিসুর রহমান, গুরুদাসপুর, নাটোর

তাড়াশ উপজেলার গুমানী নদীর ধামাইচ বাজার ঘাটে সেতু না থাকায় গ্রামবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী গুমানী নদীর ধামাইচ বাজার ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি বহু বছরের। তবে মাপজোখ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর আশার আলো দেখেছিল ১০ গ্রামের মানুষ। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতি নেই। এ কারণে হতাশ হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্ত হচ্ছে ধামাইচ বাজার। এটি গুমানী নদীর দক্ষিণ পারে গড়ে উঠেছে। যোগাযোগব্যবস্থা, কম দূরত্ব এবং বড় ব্যবসাকেন্দ্রটি গুরুদাসপুর উপজেলায়। এ কারণে গুমানী নদীর দক্ষিণ পারের মানুষ এই উপজেলাকেন্দ্রিক।

সেতুর অভাবে উত্তরের হেমনগর, নওখাদা, কাটাবাড়ি, বিন্নাবাড়ি ও সবুজপাড়া গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেশি। তাদের উৎপাদিত ফসল বেচাবিক্রি ও নিত্য কেনাকাটা করতে খেয়া পার হয়ে ধামাইচ বাজারে আসতে হয়। তা ছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নদীর দক্ষিণ পারে গড়ে উঠেছে।

অন্যদিকে নদীর দক্ষিণ পারে ধামাইচ, ঈশ্বরপুর বাহাদুরপাড়া ও রানীগ্রামের মানুষের দুর্ভোগও কম নয়। কারণ, গুমানী নদীর উত্তর পারে বিস্তীর্ণ চলনবিলে রয়েছে এসব গ্রামের মানুষের খেতখামার। চাষাবাদ এবং উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে গলদঘর্ম অবস্থায় পড়তে হয় তাঁদের। এ কারণে গুমানী নদীতে এই সেতুটি প্রয়োজন ১০ গ্রামের মানুষের।

ধামাইচবিলচলন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুকুল হোসেন ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, বর্ষায় উত্তাল থাকে গুমানী নদী। তখন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা। এ কারণে বর্ষায় শিক্ষার্থী উপস্থিত কম থাকে। নদীতে সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিরাট জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কমবে।

ধামাইচ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, নদীতে সেতু না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য আনতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। খরচ বেড়ে যায়। তা ছাড়া, সেতু না থাকায় নদীর উত্তর পাশের গ্রামগুলো অবহেলিত রয়ে গেছে। সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আবুল বাসার এনাম জানান, তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নটি নদীর উত্তর পারের কুন্দইলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক সেবা নিতে গুমানী নদী ও চলনবিল পার হয়ে সেখানে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমে এটা সম্ভব হলেও বর্ষায় অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। গুমানী নদীতে সেতু নির্মাণ করা হলে উত্তর পারের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তখন মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ থাকবে না।

ঘাটের মাঝি লিটন সরদার বলেন, মানুষের চাপ সামলাতে দুটি খেয়া চলে। এ জন্য মাসেকমপক্ষে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তা ছাড়া, শুকনো মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় বাঁশের চারাট নির্মাণ করতে ব্যয় হয় কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা। এখানে সেতু হলে মানুষের কষ্ট থাকবে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলজিইডির তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রকল্প পরিচালক এবাদ হোসেনের নেতৃত্বে মাপজোখ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। তারপর কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, ‘গুমানী নদীর ধামাইচ বাজার ঘাটে সেতু নির্মাণ তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিমান্ড নোট (ডিও লেটার) দিয়েছেন। আশা করছি, আগামী শুকনো মৌসুমেই টেন্ডার আহ্বান করে সেখানে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।’