সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মুক্তাদীরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গোলাম মুক্তাদীরের পরিবারের দাবি, তিনি ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান। অপরদিকে রায়গঞ্জ সদরের ধানগড়া এলাকা থেকে মামলার অপর আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে গোলাম মুক্তাদীরের বাবা মোশাররফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি দাবি করেন, এমপির গাড়িতে হামলার সময় মুক্তাদীর সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। তিনি হামলা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন না। গোলাম মুক্তাদীরের বিএনপিতে পদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ঘটনার সময় মুক্তাদীর সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। উত্তেজিত জনতা এমপির দিকে এগিয়ে গেলে তিনি তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুক্তাদীর হামলা বা ভাঙচুরে অংশ নিয়েছেন এমন কোনো ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাছে নেই।
এই সাংবাদিক আরও বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে রায়গঞ্জের শিমলার খন্দকার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মামলার বাদী বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান খন্দকারের সঙ্গে মুক্তাদীরের বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁকে মামলায় আসামি করা হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় রায়গঞ্জের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে ধানগড়া বাজারে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বের হওয়ার সময় এমপি ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার রাতেই বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। গোলাম মুক্তাদীর মামলার ৮ নম্বর আসামি।
শামীমুল হাসান খন্দকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিএনপির নেতাদের পরামর্শে আমি মামলার বাদী হয়েছি।
গোলাম মুক্তাদীরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন তো অনেকেই ছিল। আমরা যখন এমপির গাড়িতে ছিলাম, তখন কয়েকজন হামলা করে। গোলাম মুক্তাদীর আমাদের রাজনৈতিক ছোট ভাই। তাঁর সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক।
পূর্ব বিরোধের জেরে তাঁকে আসামি করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শামীমুল হাসান বলেন, এটা মিথ্যা কথা। দলের নেতারা যাঁদের নাম দিতে বলেছেন, তাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে। দোষীদের শাস্তি হোক। আর নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হোন, সেটাই চাই।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, আসামিদের আজ বেলা ১২টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় একজনকে থানা-পুলিশ এবং আরেকজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মুক্তাদীরকে ফাঁসানো হচ্ছে তাঁর পরিবারের এমন অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।