একসময় সিরাজগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাসের কন্ডাক্টরি করতেন মো. মোস্তাফা (৪৭)। প্রতিদিন ১২০ টাকা মজুরিতে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কাজ করেই চলত সংসার। স্ত্রী ও পালিত এক মেয়েকে নিয়ে সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে স্বপ্নের মতোই কাটছিল জীবন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সব বদলে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে কেটে ফেলতে হয় বাঁ হাত। সেই থেকে বদলে গেছে জীবনের হিসেব।
বর্তমানে কামারখন্দ উপজেলার চালা গ্রামের রেলওয়ের জায়গায় ছোট্ট একটি মুদিদোকানই তাঁর একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ২০০-২২০ টাকার মতো লাভ হয়। সেই সামান্য আয়েই কোনো মতে চলে সংসার। এর মধ্যে স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
মোস্তাফা বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে আগের মতো কোনো কাজ করতে পারি না। এই ছোট দোকানটাই এখন ভরসা। কায়েস ভাই সাদা খামে কিছু টাকা দিয়েছেন। কয়েক দিন অন্তত একটু স্বস্তিতে চলতে পারব।’
শুধু মোস্তাফা নন, একই গ্রামের ৭০ বছর বয়সী মোছা. মিষ্টি বেগমও বার্ধক্য আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছেন। তাঁর স্বামী নিজাম মণ্ডল একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারেন না। অন্যের সহায়তাতেই চলে তাঁদের জীবন।
মিষ্টি বেগম বলেন, ‘স্বামী এখন আর কাজ করতে পারে না। কায়েস গ্যাদা আমাকে ওষুধ কেনার জন্য কিছু টাকা দিয়েছে। আল্লাহ ওনার ভালো করুক।’
কামারখন্দ উপজেলার চক শাহবাজপুর গ্রামের মোছা. রোকেয়া বেগমের জীবনেও নেমে এসেছে দুর্দশা। কয়েক মাস আগে স্ট্রোক করার পর থেকে শয্যাশায়ী। তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নান (৬৫) দিনমজুরের কাজ করলেও বয়সের কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। সংসার চালানোই হয়ে উঠেছে কঠিন।
এমন অসহায়, অসুস্থ ও স্বল্প আয়ের শতাধিক মানুষের হাতে সম্প্রতি আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে সাদা খামে। সহায়তা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কায়েস। তিনি নিজ এলাকায় এলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সমর্থক, দিনমজুর, অসুস্থ ও অসহায়দের বাড়িতে গিয়ে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য ব্যক্তিগত অর্থ থেকে এই সহায়তা দেন।
আব্দুল্লাহ আল কায়েস বলেন, ‘আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের সেবা করার মধ্যেই আমি রাজনীতির প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাই।’
কয়েক হাজার টাকার একটি সাদা খাম হয়তো কারও জীবন বদলে দিতে পারে না। তবে মোস্তাফা, মিষ্টি বেগম কিংবা রোকেয়া বেগমের মতো মানুষের কাছে সেটুকুই কয়েক দিনের স্বস্তি, কিছু ওষুধ কেনার সুযোগ, কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে একটু আশার আলো।
সহায়তার সাদা খাম বিতরণকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শম্ভু নাথ দাস, সদস্যসচিব কামারখন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শেখ সোহেল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।