হোম > সারা দেশ > সিরাজগঞ্জ

এমপির গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

প্রধান আসামি তমাল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় প্রধান আসামি তমাল সরকারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তমাল সরকার ধানগড়া এলাকার মৃত সিরাজ সরকারের ছেলে। 

মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আহসানুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ধানগড়া বাজারে প্রস্তাবিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) জায়গা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সংসদ সদস্য আয়নুল হক। সভা শেষে গাড়িবহর নিয়ে ফেরার পথে তাঁর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সংসদ সদস্য অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে ওই রাতেই রায়গঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ এর আগে এ মামলায় রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার আরও চার আসামি বর্তমানে আগাম জামিনে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক।

এদিকে ঘটনার তদন্তে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাকে আহ্বায়ক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খানকে সদস্যসচিব করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মতবিনিময় সভা শেষে সংসদ সদস্য আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁর গাড়িবহরে হামলা ও একটি গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙচুর করা হয়।

সংসদ সদস্য আয়নুল হক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজিত একটি রাজনৈতিক পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর গাড়িবহরে হামলা করেছে। হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি নিজে দেখেছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, হামলায় তাঁর গাড়ির পেছনের কাচ পুরোপুরি ভেঙে যায়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লাইভ বক্তব্যে আয়নুল হক দাবি করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী ফয়সল বিশ্বাসও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা হামলায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেতারা।