ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে অজ্ঞাত ব্যক্তির ছোড়া পাথরে ডান চোখ হারিয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন (২২)। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফেরার সম্ভাবনা নেই। মাথাতেও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
বুধবার সকালে সাব্বিরের বড় ভাই মো. সুলতান জানান, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের ডান চোখ আর ভালো হওয়ার সুযোগ নেই। মাথার আঘাতের মাত্রা জানতে সিটি স্ক্যান করা হবে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরবর্তী চিকিৎসার ধরন ও খরচ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুলতান বলেন, ‘আগে ভাইয়ের চিকিৎসা শেষ হোক। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এত অল্প বয়সে ওর একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই ট্রেন থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সাব্বিরকে জামতৈল রেলস্টেশনে নামানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাব্বিরের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উল্লাপাড়া স্টেশন পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর চলন্ত ট্রেনে পাথরটি আঘাত করে। সময় ও দূরত্ব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, উল্লাপাড়া ও জামতৈল রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ রেলপথের কয়েকটি এলাকায় প্রায়ই বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এর মধ্যে কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর-কয়েলগাতী এলাকার ছাগলাপাগলা দহ রেলব্রিজ, তাজুরপাড়ার চতরার দহ রেলব্রিজ এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা রেলসেতু এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে। তবে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ বাজার রেলস্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আহতের পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষ করে পরে মামলা করবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, আহতের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, উল্লাপাড়া স্টেশন ছাড়ার পরপরই ঘটনাটি ঘটে। পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
কামারখন্দ থানার ওসি ছুটিতে আছেন জানিয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার বলেন, ‘এটি রেলওয়ে পুলিশের তদন্তের বিষয়। তবে খবর পাওয়ার পর আমরা আহত ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলাম এবং বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছি।’
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন মো. দুলাল হোসেনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। তাঁর বাবা একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে কর্মরত। বড় ভাই বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন সাব্বির। এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তির ছোড়া পাথর এসে তাঁর ডান চোখে লাগে। কয়েক সেকেন্ডের ওই ঘটনায় একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে একজন তরুণ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।