হোম > সারা দেশ > শরীয়তপুর

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মতো দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটের কারণে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর পৌর অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, চাকরিতে নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করে এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখা।

এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জাতীয় শ্রমিকশক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে দেশের সাহসী সন্তানেরা জীবন দিয়েছিলেন। সেই বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল; কিন্তু নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার আবারও বৈষম্য শুরু করেছে।

নাহিদ আরও বলেন, ‘অনেক উন্নয়নের গল্প আমরা শুনেছি। পদ্মা সেতু হয়েছে, কিন্তু শরীয়তপুরের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বছরের পর বছর পার হয়ে যায়, কিন্তু শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হয় না।’

শরীয়তপুরে এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই হয়েছে। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মনোনয়ন ফরম তুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এনসিপির বিভিন্ন নেতা-কর্মীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা বলব, স্বৈরাচার সরকারের কাছ থেকে আপনারা শিক্ষা নিন। ক্ষমতা চিরকালের জন্য নয়। দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে যদি মনে করেন, দেশ আপনারা কিনে নিয়েছেন, এ দেশের মালিক আপনারা হয়ে গেছেন, তাহলে অতীতের দিকে তাকান। আওয়ামী লীগও ঠিক একই চিন্তা করেছিল। আজ আওয়ামী লীগের অবস্থান কোথায়? মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করেছে। দেশে তাদের রাজনীতি করার আর কোনো সুযোগ নেই।’

নির্বাচনের আগে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভালো-মন্দ মিলিয়ে বিএনপি সারা দেশে মামলা-বাণিজ্য করেছে। মামলার ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে। এখন চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার একাকার হয়ে যাচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলব, স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত বাদ দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলুন। সেটা না করলে আপনারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছাড়া বিএনপির পক্ষে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, বিগত ১৬ বছরে বিএনপি এককভাবে একটি শক্তিশালী আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি।

নাহিদ বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে না নামলে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারত না। তারেক রহমানও লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে পারতেন না। সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

বিএনপির উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দলটি ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইনের শাসন ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা।

সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় শ্রমিকশক্তির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।