হোম > সারা দেশ > শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে দেড় হাজার কোটি টাকার বাঁধে ধস, পদ্মায় বিলীন ৪০ মিটার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকায় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। এরই মধ্যে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে ওই এলাকায় বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ধসের ঘটনায় সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছঘাট এলাকায় ফাটল ধরা বাঁধের অংশে ধস শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বাঁধ ধসের খবর ছড়িয়ে পড়লে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছের আড়তের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট এবং মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।

সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছঘাট এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নৌপথে যাতায়াতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এখানে মাছ কিনতে আসেন। লঞ্চঘাট ও মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খাবারের হোটেলসহ নানা স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার হঠাৎ সুরেশ্বর লঞ্চঘাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রস্তুতি শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফাটল ধরা অংশে ধস শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে বাঁধের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেন, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান এবং শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘এক ইঞ্চি মাটিও যেন পদ্মায় বিলীন না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাটল ধরা অংশে ভাঙন শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট, মাছের আড়ত, আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নদীর তীরবর্তী জনবসতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।