হোম > সারা দেশ > শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে এজলাসে পিপির অসদাচরণ, নেমে গেলেন বিচারক

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিচারক ও এক আইনজীবীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য স্থগিত রেখে এজলাস থেকে নেমে যান বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও মামলার পক্ষগুলো।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আদালতে হাজিরা দিতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মামলার বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীরা ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেও হাজিরা দিতে না পারায় তাঁদের সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুক্তা বেগম এলাকার তুহিন সরদারের ছেলে রামিম সরদারের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার উদ্যোগের পর আদালতে সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্যোগ নেয় বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতু আক্তার।

অ্যাডভোকেট মিতু আক্তারের অভিযোগ, সাক্ষী হাজির করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বাদীর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তিনি নিজেই বাদী ও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করেন।

অ্যাডভোকেট মিতু আক্তারের দাবি, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার পর অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এজলাসে তাঁকে ধমক দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অনুমতি ছাড়া সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে বিচারকের উদ্দেশেও তিনি আপত্তিকর কথা বলেন। এ সময় তিনি কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলেও মন্তব্য করেন। পরে বিচারক বিচারকার্য না করেই এজলাস থেকে নেমে যান।

অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এ সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, সাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এজলাসে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় আদালত নেমে যান।

আদালতের পেশকার শাহিন বলেন, ‘সাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বিচারক আদালত থেকে নেমে যান। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান দীপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেম এসে স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।’

অভিযোগ রয়েছে, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আদালতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।