সাতক্ষীরার দেবহাটায় একটি মুরগির খামারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। অস্ত্রের মুখে খামারে থাকা ব্যক্তিদের জিম্মি করে মুরগি, মুরগির খাদ্য, ব্যাটারি, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে অস্ত্রধারীরা। এই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কদমখালি-শশাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আনছার আলী বিশ্বাস।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে ৩০-৪০ জনের একটি দল পিকআপ ভ্যান নিয়ে খামারে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে দা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে খামারের সাড়ে ৬০০ মুরগি, ২০ বস্তা মুরগির খাবার, আইপিএস ব্যাটারি ও বিভিন্ন মালামাল পিকআপে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেল রেখে মাছের ঘেরে যাই। আড়াইটায় এসে দেখি মোটরসাইকেল নেই। সেখানে ৪০-৫০ জন লোক দা-কুড়াল ও বন্দুক নিয়ে অবস্থান করছিল।
লক্ষ্মী মণ্ডল নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতে বাড়ির বাইরে হইচই শুনতে পান। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে লোকজনকে চলাচল করতে দেখেছেন তিনি।
খামারের মালিক আনছার আলীর ছেলে সবুজ হোসেন দাবি করেন, খামারে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএস ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ছিল। সব মিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আনছার আলীর ভাই জিয়াত আলী বিশ্বাস বলেন, ‘রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ভাইয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খামারের সবকিছু নিয়ে গেছে। আমি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। তারা আসি আসি করে পরদিন সকালে এসেছে।’
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর পাওয়ার পরও সময়মতো পুলিশ গেল না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, কেন পুলিশ গেল না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।