রংপুরের পীরগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মন্দির, স্কুল ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর এবং স্থাপনা খুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের মিঠিপুর দাশপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠিপুর দাশপাড়া এলাকায় একটি জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মৃত গৌর চন্দ্র দাশের ছেলে শংকর দাশের সঙ্গে তাঁর আপন মামা সন্তোষ দাশের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার দুপুরে ওই বিরোধের জেরে সন্তোষ চন্দ্র দাশ, সাধন চন্দ্র দাশ ও সরণ চন্দ্র দাশসহ শতাধিক ভাড়াটে লোক সেখানে গিয়ে মন্দিরসহ অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকালু চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে পূজা করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁরা কাজটা ঠিক করেনি।
নয়ন চন্দ্র নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, সামনে আমাদের পূজা। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুর করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী শংকর চন্দ্র দাশ অভিযোগ করে বলেন, আমি গতকাল মন্দিরের নামে দুই শতক জমি লিখে দিয়েছি। তাঁরা ওই জমি নিজেদের দাবি করে লোকজন নিয়ে এসে ভাঙচুর করেছে। আমাদের মন্দিরের প্রতিমা ও স্কুলের স্থাপনা ভেঙে নিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সন্তোষ চন্দ্র দাশ। তিনি বলেন, আমাদের জায়গায় প্রাচীর ও স্কুলের স্থাপনা ছিল। আমরা সেগুলো ভেঙে দিয়েছি। মন্দির ও প্রতিমা আমরা ভাঙিনি।
ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।