হোম > সারা দেশ > রংপুর

রংপুরে ১১০০ গ্রাহকের টাকা নিয়ে পলাতক সমিতির পরিচালক

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগাছায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আমানত নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান সোহেল ‘হাসনা আলোর যাত্রী গ্রাম সার্বিক উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পরিচালক।

প্রতিকারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এ ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের দামুরচাকলা এলাকায় প্রায় চার বছর ধরে সমিতিটির কার্যক্রম চলছিল। সমিতিটি ‘ভিলেজ ভিজিটাল ব্যাংক’ নামে পাসবই ছাপিয়ে ২৫ জন দলনেতা নিয়োগ করে। দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এক সপ্তাহ আগে প্রায় ১ হাজার ১০০ গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে মাহমুদুল হাসান সোহেল লাপাত্তা হন। গতকাল বুধবার রাতে সমিতির কার্যালয়ের অবশিষ্ট মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় তাঁর স্ত্রীকে আটক করেন গ্রাহকেরা।

ভুক্তভোগী গ্রাহক জরিনা, হাসনা ও রাহেলা বেগম বলেন, দ্বিগুণ লাভের আশায় তাঁরা সমিতিতে টাকা জমা রেখেছিলেন। গত সপ্তাহে সোহেল সবকিছু নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং টাকা ফেরত দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই প্রতারণার সঙ্গে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত। তাঁরা এ দায় এড়াতে পারেন না।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে সমবায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমবায় অধিদপ্তরের কোনো দায় আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল হাসান বলেন, ‘আমি তিন মাস হলো এই জেলায় দায়িত্ব পালন করছি। আগে কী ঘটেছে, তা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের বিষয়টি অডিট করে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদের মামলা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’