• ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ।
• বৃষ্টি না হওয়ায় খেত শুকিয়ে চৌচির।
রংপুরের পীরগঞ্জে প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টির অভাবে খেতের আমন ধান গাছ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ধানের জমিতে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
গতকাল বুধবার রায়পুর, বড় দরগা ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা কমে গেছে। তীব্র রোদ ও গরমে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় ধানগাছ সতেজ রাখা
কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অনেক কৃষক সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বাড়তি সেচের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টর চাষাবাদ করা জমি রয়েছে। চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছেন কৃষক।
উপজেলার বড় দরগা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধানের জমিতে পানি নেই। বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ফলন নিয়ে বিপদে পড়ব। এ সময় জমিতে পানি না হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে ধানের।’ রায়পুরের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘জমির মাটি ফেটে গেছে। ধানগাছের বৃদ্ধি আগের মতো নেই। এখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি ছাড়া উপায় দেখছি না। আমন ধান আমাদের সারা বছরের খাদ্য ও আয়ের অন্যতম ভরসা। তাই দ্রুত বৃষ্টি দরকার।’
আলমপুরের কৃষক মাহামুদুল হাসান বলেন, এ সময় আমন ধানের জমিতে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ধানগাছে শিষ বের হওয়ার সময় পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জমি শুকিয়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কাবিলপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই আমরা আমন ধানের চাষ করি। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমিতে পানির সংকট দেখা দেয়। তখন বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বাড়তি টাকা খরচ হয়, পাশাপাশি সময় ও শ্রমও বেশি লাগে। তাই স্বল্প খরচে সেচের পানির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক উপকার হতো।’
পৌরসভার কৃষক রানু মিয়া বলেন, এখন ধানগাছে শিষ বের হওয়ার সময় জমিতে পানির প্রয়োজন। কৃষকেরা অনেক আশা নিয়ে ধান চাষ করেন, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সেই আশা পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে এবং জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগামী দিনে বৃষ্টিপাত হলে ধানের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।’