হোম > সারা দেশ > রংপুর

নদীপাড়ের মাটি লুট বিএনপি নেতার

খুরশিদ আলম শাওন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু এ ব্যাপারে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ।

ঘটনাটি উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের বিরাশি বাজার কবরস্থানসংলগ্ন এলাকার। ওই ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলী এ মাটি কাটছেন।

মঞ্জুর আলীর দাবি, সেখানে প্রায় ৮ বিঘা আবাদি জমি তাঁর। সেই জমি উঁচু ছিল তাই ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে সমান করছেন এবং নদীর পাশের বাঁধ তিনিই দিয়েছিলেন। এখন প্রয়োজন নেই, তাই কেটে ফেলছেন। মাটি নিজের জমিতেই দিচ্ছেন।

তবে স্থানীয়রা বলছেন উল্টো কথা। তাঁরা জানান, নদী পাড়ের মাটি ও বালু লুট করে সারা রাত ট্রলি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। সপ্তাহ খানেক ধরে চলছে এই লুটপাট।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিরাশি বাজার থেকে বাগানবাড়ি হয়ে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরে গেছে। কবরস্থানের নিচেই বিশাল এলাকাজুড়ে ফসলের মাঠ। তার একটু দূরেই বয়ে গেছে কুলিক নদী। এ নদীর পাড়ে একটি খননযন্ত্র। এটি একেবারে নদীর কিনারে। এটির সামনে রয়েছে কেটে রাখা মাটি। পাড় থেকে প্রায় ১০ ফুট জায়গার মাটি কাটা হয়েছে।

নদীর পাশেই গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন কয়েকজন পুরুষ ও নারী। তাঁরা জানান, দিনে মাটি কাটা বন্ধ থাকে, রাতে চলে দেদার। যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে খুব শিগগির নদীর ভাঙনের কবলে পড়বে কয়েক শ একর জমি।

এ ছাড়া বর্ষার সময়ও অনেক ফসলি জমি পানিতে বিলীন হবে। তাঁরা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রশাসনের লোক ও সাংবাদিক এসেছিলেন। তাঁরা অনেক ফটো, ভিডিও করে নিয়ে গেছেন। আমরা ভেবেছিলাম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কই কিছুই তো হলো না। পরে শুনলাম সবাই ম্যানেজ।’

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ডাম্প ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। অবাধে মাটি কাটার ফলে নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের শত শত একর আবাদি জমি।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী বলেন, ‘মাটি কাটছি জমি সমানের জন্য। এতে তো কারও ক্ষতি হওয়ার কথা না। তা ছাড়া মাটি তো বিক্রি করছি না।’ রাতে বালু-মাটি কাটার কথা বললে মঞ্জুর আলী বলেন, ‘যাদের চুক্তি দিয়েছি তারা হয়তো মাঝে মাঝে নিয়ে যায়।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদীর পাড় বা নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এখান থেকে মাটি বা বালু অপসারণ আইনত দণ্ডনীয়। বিষয়টি জানতাম না। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’