রংপুরের পীরগঞ্জে শানেরহাট ইউনিয়নের তারবিয়াতুল উম্মাহ্ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হুমকি, মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক নারী সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনায় সুবিচারের দাবি জানিয়ে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মিশকাত জাহান সীমা।
অভিযুক্তরা হলেন—প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর) মশিউর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক হুজাইফা আদনান ও জাবেদ মিয়া।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মিশকাত জাহান শারীরিক অসুস্থতার কারণে পাঠদানের ক্ষেত্রে মানবিক সুযোগ-সুবিধা চেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আবেদন বিবেচনা না করে উল্টো তাঁর ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রহারের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত শিক্ষকেরা তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন এবং চাকরিচ্যুত করার ভয়ভীতি দেখান। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির কোনো সরকারি অনুমোদনও নেই।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান তাঁর নিজস্ব মোবাইল নম্বর থেকে ওই শিক্ষিকাকে ফোন করেন। ফোনালাপে তাঁকে প্রতিষ্ঠানে না আসার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক হুজাইফা আদনান মুঠোফোনে শিক্ষিকাকে বারণ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও তিনি ভালোভাবে ক্লাস নিতে পারেন না, তাই তাঁকে প্রতিষ্ঠানে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, শিক্ষিকার তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।