হোম > সারা দেশ > রংপুর

পীরগঞ্জ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, মশারি ব্যবহার না করায় ঝুঁকি

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ১৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা থাকলেও অনেকেই তা ব্যবহার করছেন না। ফলে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীরা মশারি ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা না গেলে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি ২৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে পীরগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফেরার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানকালে জ্বর অনুভব করার পর বাড়িতে ফিরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করান। আবার কেউ কেউ বাড়িতে জ্বর অনুভব করার পর হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খয়বর আলী বলেন, ঢাকায় থাকা অবস্থায় জ্বর অনুভব করি। পরে বাড়িতে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।

শাহাদাৎ আলী বলেন, বাড়িতে জ্বর অনুভব হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রক্ত পরীক্ষা করি। পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর থেকে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি।

ঢাকা থেকে আসা নাহিদ বলেন, ঢাকায় রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে বাড়িতে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তরিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসে মোট ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলমান।

তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, রংপুর জেলার মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি। গত বছরগুলোতে এত ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। আমরা মশারি দিয়েছি, রোগীর স্বজনদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার।