গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ও রংপুরের পীরগাছায় একটি কুকুরের হামলায় শিশুসহ আটজন আহত হয়েছে। এ সময় দুটি গরু ও চারটি ছাগলও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়েছে। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে ধরে মেরে ফেলেন।
আজ শনিবার সকাল থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল, দেওডোবা, মনিরাম ও পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামে পৃথক সময়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—জামাল গ্রামের আব্দুল হান্নান (৫০), তোফাজ্জল হোসেন (৭০), ছবির মিয়া (৫৫), দেওডোবা গ্রামের সোহাগ মিয়া (৪) ও আতোয়ার রহমান (৫০), মনিরাম গ্রামের জহুরুল ইসলাম (২৫) ও রুবেল মিয়া (৩০) এবং পীরগাছার মকরমপুর গ্রামের হাসান আলী (৬০)।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে ইছলার বাজারের নৈশপ্রহরী হাসান আলী ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরটির হামলার শিকার হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটি জামাল গ্রামে ঢুকে একে একে চারজনকে কামড়ে আহত করে। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মনিরাম গ্রামের গাজীর মোড় এলাকায় আরও তিনজনকে কামড়ায়।
আহতদের কারও মুখে, কারও পায়ে, আবার কারও হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মানুষের পাশাপাশি কুকুরটি দুটি গরু ও চারটি ছাগলকেও কামড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কুকুরটির হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী কুকুরটিকে ধরে মেরে ফেলে।
জামাল গ্রামের আহত চারজন পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আটজন আহত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকজন কাজ করছেন।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে যাই। গবাদি পশুগুলোকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুকুরটির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।’ পরে কুকুরটিকে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, হাসপাতালে আসা কুকুরের কামড়ে আহত চার ব্যক্তিকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মাহমুদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।