হোম > সারা দেশ > রংপুর

করতোয়ার বালুচরে রূপের পসরা, প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা

মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)

করতোয়া নদীর বালুচরে কাশফুলের শুভ্রতা দেখতে দর্শনার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ নীল আকাশে মেঘের ভেসে চলা আর নিচে সবুজের বুকে দিগন্তজোড়া সাদা কাশফুলের মেলা। বাতাসে দুলতে থাকা কাশের নরম শিষ দূর থেকে দেখলে মনে হয়—কোনো এক চরে নেমে এসেছে দুধসাদা ফেনার ঢেউ। শরতের প্রকৃতির এমন মোহনীয় ও কাব্যিক রূপ এখন শোভা পাচ্ছে করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে।

রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে চলা করতোয়া নদীর বালুচরে রূপের পসরা সাজিয়েছে এই কাশবন। সবুজ রূপসী প্রকৃতির বুকে শুভ্রতার এই রাজত্ব দেখতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে জমায়েত হচ্ছেন শত শত অনুরাগী। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে, আবার কেউ বন্ধুদের আড্ডায় মেতে ওঠে হারিয়ে যাচ্ছেন কাশফুলের শুভ্রতায়।

কাশবনের শুভ্র শিষ আর দূর আকাশের সুনীল মিতালি যেন এক মায়াবী ক্যানভাস গড়ে তুলেছে। সেই অনুপম সৌন্দর্যকে স্মৃতির ফ্রেমে আটকে রাখতে ব্যস্ত সব বয়সের মানুষ। কাশবনের সরু পথে হেঁটে চলা, ফ্রেমবন্দী হওয়া আর নদীছোঁয়া বাতাসে জিরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই জমে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের এই মিলনমেলা।

ঘুরতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, কাশফুলের এত কাছাকাছি আসার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ। বিকেলের মিষ্টি রোদে পরিবার নিয়ে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। ছবি তোলার জন্য এটি এক চমৎকার জায়গা।

প্রকৃতির এমন রূপে বিমোহিত আরেক দর্শনার্থী মিরাজ বলেন, শরতের কাশফুলের যে কী অপরূপ মহিমা, এখানে না এলে বোঝা যেত না। নদী, নীল আকাশ আর কাশবন—সব মিলিয়ে নিমেষেই মন ভালো হয়ে যায়।

প্রতিবছর শরৎ এলেই করতোয়া নদীর বুকে ভেসে ওঠে এই সাদা মায়াজাল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াত সহজ করা, বসার সুব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে করতোয়ার এই চরাঞ্চল রূপ নিতে পারে আকর্ষণীয় এক প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কাশবনে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি, দর্শনার্থীদেরও সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার অনুরোধ করা হয়েছে।