রাত তখন প্রায় আড়াইটা। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের মানুষের। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখেন, বিশাল একটি জোড়পাকড় গাছ ভেঙে পড়েছে টিনের ঘরের ওপর। গাছের নিচে চাপা পড়ে যায় ঘরটি। ভেতরে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন দীপা রানী (২৪), তাঁর স্বামী সজীব ও তাঁদের আট মাসের শিশুসন্তান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হাজরাহাটি ভরকুল এলাকায় এ দুর্ঘটনায় দীপা রানী নিহত হন। আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী সজীব। তবে ধসে পড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছ সরিয়ে দীপা রানীর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান চলছিল। পরে শিশুটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
প্রতিবেশী পল্লিচিকিৎসক প্রফুল্ল রায় বলেন, বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন গাছটি ঘরের ওপর পড়ে আছে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেন। গাছের নিচে দীপা রানীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর স্বামী সজীবের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল।
খবর পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কেটে সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। আহত সজীবকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি ছিল না। হঠাৎ করেই গাছটি ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে যায় বলে তাঁদের ধারণা। এতে দুটি টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালের পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দীপা রানীর শ্বশুর অমল রায় বলেন, ‘ঝড় নেই, বৃষ্টি নেই—কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে দুটি শেষ হয়ে গেছে। ছেলের বউ মারা গেছে। শিশু বাচ্চাটিকে নিয়ে এখন আমরা কী করব, কোথায় থাকব, জানি না।’
স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত ধারণা, গাছটির বয়স ২৫০ থেকে ৩০০ বছর। তবে গাছটির বয়সের বিষয়ে কোনো সরকারি বা বিশেষজ্ঞ যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। গাছটির নিচে একটি কালীমন্দিরও রয়েছে।
মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।