রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো অবরোধ চলছে। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কর্মসূচিটি পালিত হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সংগঠন দুটি পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ-সমর্থিত বলে জানা গেছে।
টানা চার দিনের অবরোধে সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আগের অবরোধগুলোতে সড়কে পিকেটিং দেখা গেলেও এবার তেমন দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকায় সাজেক সড়কে কোনো যান চলাচল করছে না।
সাজেকের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সাজেকের চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সংকট নিরসনের উপায় খুঁজে বের করতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভা শেষে দীপেন দেওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের কর্মসূচির সঙ্গে মূলধারার হেডম্যান-কার্বারি সংগঠনগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করবে।
আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান দাবি, সাজেক এলাকা থেকে সন্তু লারমা-সমর্থিত জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের স্থায়ীভাবে তাড়িয়ে দেওয়া।
সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অবরোধ কর্মসূচি দুই সংগঠনের নামে পালিত হলেও এর নেপথ্যে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ কাজ করছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জেএসএসের সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে স্থানীয় নিরীহ জনগণকে ব্যবহার করে পর্যটকদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।