জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য রাঙামাটির নানিয়ারচরের নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃত্যের আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুদানে মিশনে মোতায়েন ব্যানএফএমইউ-১১-এ কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হন ট্রোম্যান খীসা। বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
গতকাল রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ঢাকায় বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় রাঙামাটির নানিয়ারচরের রামহরি পাড়ায় তাঁর পৈতৃক নিবাসে।
আজ সোমবার তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহাপুরম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচরের রামহরি পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ট্রোম্যান খীসা। ২০০৬ সালের ১ জুলাই তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগ দেন।
ট্রোম্যান খীসার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ট্রোম্যান খীসার অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত ট্রোম্যান খীসার স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়। পরে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও প্রথা অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।