সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। একই সঙ্গে তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত রাকসুর সব কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে তাঁরা।
আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু)-এর সভাপতি স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট ঘটনার পর রাকসু ভবনে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘটিত হামলা শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করেছে। এ ঘটনার বিষয়ে রাকসুর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে—ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্না’ ও ‘মাথাব্যথা’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং ‘জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া একই ঘটনার পর রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিবাদলিপি দিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ট্যাগিং, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সংগঠন রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি সে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
তাঁরা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তত দিন পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকবেন।
এ দিকে একই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)।
সংগঠনটির সভাপতি শ ম সাজু এবং সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতার সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ডেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
আরটিজেএ’র বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে তার দায় সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের নয়। সত্য প্রকাশ করা অপরাধ নয় বরং সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আরটিজেএ আরও জানায়, একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি যদি সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তবে তা শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহের জন্যও উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে রাবি সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাকসু ভিপির এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক। ছাত্র প্রতিনিধি কর্তৃক সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে।’
মীর কাদির আরও বলেন, ‘তাঁরা মূলত ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ কারণেই সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাকসুর ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত রাকসুর সকল কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল বলেন, ‘সাংবাদিকতার যেকোনো পর্যায়ে এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেতে কি ধরনের শব্দচয়ণ করবে তা সেই ঘটনার ওপর নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কখনোই সেটি নির্ধারণ করতে পারে না।’
এর আগে গতকাল রাকসু ভবনে ভিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
মেটা:
ক্যাটাগরি: সারা দেশ, রাজশাহী
ছবি: রাবি বিবৃতি, রাবি বিবৃতি ১
ক্যাপশন: ১-
২-
লিংক: ১-
লিংক: ১-