সারের জন্য হাহাকার, এক ডিলারের দোকান থেকে আরেক ডিলারের দোকানে দৌড়াদৌড়ি, অতিরিক্ত দামে কৃষকের সার কিনতে বাধ্য হওয়ার ঘটনার মধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ জানালেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সেই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কোনো সার ডিলারের ডিলারশিপ বা লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে না। কৃষকদের অগ্রিম সার না কেনারও আহ্বান জানান তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলজ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শাহে আলম বলেন, সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে গতকাল মঙ্গলবার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই সার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কোনো ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সরকারের হাতে মজুত রয়েছে। দেশের ১৩৩টি গুদাম ও ৩৩টি বাফার গুদামে সার সংরক্ষিত আছে। তাই সার নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গত সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন বলেও জানান শাহে আলম। সার সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ওই কমিটি।
সামনে আলু ও রবি শস্যের মৌসুম থাকায় কৃষকদের কেউ কেউ আগাম টিএসপি ও ডিএপি সার কিনছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রিম সার কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাসময়ে সার সরবরাহ করা হবে।’
মীর শাহে আলম জানান, কিছু কৃষক অগ্রিম সার কিনতে যাওয়ায় এবং কয়েকজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার উত্তোলন বা বিতরণে বিলম্বকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সৃষ্ট ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন ফসলের জন্য কখন কতটুকু সার প্রয়োজন, তার হিসাব সরকারের কাছে রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।