হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো হাঁটু পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবার হাঁটু পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার। ছবি: হাসপাতালের সৌজন্যে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো হাঁটু পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। আজ সোমবার বিবিজান (৬০) নামের এক বৃদ্ধার পায়ে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের অর্থোপেডিকস অপারেশন থিয়েটারে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে অস্ত্রোপচার। সফল এই অস্ত্রোপচার অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের জন্য বিশেষ অর্জন বলছেন চিকিৎসকেরা।

বৃদ্ধা বিবিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্টিও আর্থরাইটিস রোগে ভুগছিলেন। তাঁর হাঁটু ক্ষয়ের মাত্রা খুব তীব্র পরিমাণে ছিল। এ রকম হাঁটুগুলো বেকে যায় এবং তীব্র ব্যথা থাকে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটু বাঁকানোও যায় না। এই পর্যায়ে গেলে হাঁটু বদলে ফেলাটাই আধুনিক চিকিৎসা বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিবিজানকে দিয়েই রামেক হাসপাতালে এই অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো।

এই অস্ত্রোপচারে অংশ নেন অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইদ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক।

ডা. মনোয়ার তারিক সাবু জানান, হাঁটুর ওপরের দিকে দুটি হাড় থাকে। এই অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে পিবিয়ার ওপরের অংশ ৯ মিলিমিটার কাটা হয়। আর খিমারের নিচের অংশ কাটা হয় ৯ মিলিমিটার। এরপর মেটালের আর্টিফিশিয়াল একটি হাঁটু লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই হাঁটু খুবই উন্নতমানের। দাম প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিবিজানের এক পায়ে এ হাঁটু লাগানো হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন জানান, এই অস্ত্রোপচারের ফলে রোগীর হাঁটু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তিনি চলাফেরাসহ সবকিছু করতে পারবেন। শুধু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আলমগীর আরও জানান, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে তাঁরা অন্তত একজন রোগীর এই অস্ত্রোপচার করতে চান। এতে উত্তরবঙ্গের মানুষ উপকৃত হবেন। এই অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁদের আর ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।