খাতায় থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে আবার খাতা লেখানোর অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পরই এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ।
তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ইব্রাহিম হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান সচিব।
বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকায় ‘বাসায় ডেকে পরীক্ষার্থীকে খাতায় লেখালেন পরীক্ষক’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে আবার খাতায় লেখানোর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় নিজের মোবাইল নম্বর লিখে আসে মেহেদী। ওই নম্বরে ফোন করে তাকে বাসায় ডেকে নেন রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক ও পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। পরে গত ১৪ আগস্ট তাঁকে বাসায় নিয়ে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে আবার খাতা লেখার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মেহেদী।
মেহেদীর ভাষ্য, পরীক্ষায় তিনি আগে ২৫ নম্বর পেয়েছিলেন। পরে নতুন করে লেখার কারণে এবার ৫০-এর বেশি নম্বর পাবেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। বাসায় যাওয়ার আগে পরীক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর কথোপকথনও হয়। ওই ফোনালাপের রেকর্ড থাকার দাবি করেছেন মেহেদী। তবে পরীক্ষক সেকেন্দার আলী অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালেই খাতা পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো শুরু হয়। ইতিমধ্যে খাতা দেখা শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরে ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।