হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নখ তুলে ফেলার হুমকি

 দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

চুরির অভিযোগে রাজশাহীতে গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মোবাইল ও টাকা চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কিশোরের হাত পায়ের নখ তুলে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের মহিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে নির্যাতনের ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্যাতিত কিশোর রিয়াজুল ইসলাম রিফাত (১৪) ওই ইউনিয়নের খাসখামার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর রিফাতকে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। উত্তেজিত লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘তুই মোবাইল চুরি করলি ক্যা?’ জবাবে রিফাত কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘আব্বা সব শিখে দিছে, চুরি করতে বলে।’ এ সময় লোকজন আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘হাইসা নিয়ে আসো এর নখ কেটে দাও।’ এ কথা শুনে কিশোর রিফাত বলে, ‘হাইসা আনো আমার নখ কাটো, কাটো।’

এ ঘটনায় শিশু রিফাতের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রিফাত মহিপাড়া গ্রামে তার নানির বাড়িতে থাকত। শুনেছি ২০ দিন আগে একটি মোবাইল ও ৯০০ টাকা নিয়ে সে ঢাকায় পালিয়ে যায়। ৫ দিন আগে ঢাকা থেকে আমার বাড়িতে আসে। আজ সকালে মহিপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনসহ কয়েকজন মিলে তাকে নিতে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে ফিরিয়ে দিয়ে যায়।’

আনোয়ার আরও বলেন, ‘তারা আমার ছেলেকে গাছে বেঁধে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে চুরির স্বীকারোক্তি নিয়েছেন। এক গ্লাস পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় সালিস বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

শিশু রিফাত বলে, ‘বাবু হোসেন ও রাজীব আমাকে মেরেছে। তারা শিখিয়ে দিয়ে বলে, তোর বাপের নাম বুলবি। আমি তাদের ভয়ে আমার বাপের নাম বলেছি। আমি মোবাইল চুরি করে ঢাকায় গিয়ে একটি দোকানে রাখছি আর টাকা ভাতটাত খেয়ে খরচ হয়ে গেছে।’

এ ঘটনার পর নির্যাতনে অভিযুক্ত বাবু হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।