হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

মা, আমার ওপর গজব চলছে—বলার পরই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামে শোয়ার ঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকাল সাড়ে ৮টায় মাকে ফোন করে হাসিনা খাতুন বলেছিলেন—মা, আমার ওপর গজব চলছে। এর সাড়ে তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে খবর আসে, শোয়ার ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে হাসিনার মরদেহ। গতকাল সোমবার রাজশাহীর তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে হাসিনার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। পরে তাঁর মরদেহ বাবার বাড়ি তানোর উপজেলার পিঁপড়া কালনা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে হাসিনার স্বামী সাজু সরদার (৩৭) পলাতক রয়েছেন। হাসিনা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তাঁকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী সাজু সরদার। দুই বছরের দাম্পত্য জীবনে অন্তত সাতবার নির্যাতনের পর হাসিনাকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। এসব ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-মীমাংসাও হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, হাসিনার মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো ছিল। তাঁর পা মাটিতে ঠেকে ছিল। ঘরের দরজাও খোলা ছিল। হাসিনার মাথার চুল ভেজা ও কাদামাখা ছিল বলে তাঁরা জানান। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সাজু সরদারের সঙ্গে হাসিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।

হাসিনা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য সাজু সরদার বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন হাসিনাকে। একপর্যায়ে তাঁকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হতো। যৌতুক হিসেবে হাসিনার বাবার কাছ থেকে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও গরুও নেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

হাসিনার বাবা মতিউর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার মেয়ে তাঁর মাকে ফোন করে বলে—মা, আমার ওপর গজব চলছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আমরা খবর পাই, মেয়ের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।’

মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী মামলা হবে। পুলিশ মামলা না নিলে আমরা আদালতে হত্যা মামলা করব।’

জানতে চাইলে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সুরতহালের সময় মরদেহের শরীরে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। নতুন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে থানায় মামলা হবে।’