হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

উদ্বোধনে আসেননি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, চারুকলার প্রদর্শনীতে চার ঘণ্টা অপেক্ষা

রাবি প্রতিনিধি  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁরা কেউ উপস্থিত হননি। তাঁদের জন্য নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠান শুরু করতে হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর সময় বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে অতিথিরা উপস্থিত না হওয়ায় অনুষ্ঠান শুরু করা হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না—এমন কোনো তথ্যও আয়োজকদের জানানো হয়নি। বরং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে উপাচার্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন বলে আয়োজকদের জানানো হয়। পরে উপাচার্য অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের অতিথিদের সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠান শুরু করতে হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া নায়লা নওশিন বলেন, ‘শুধু তাঁদের সময় পাওয়ার জন্য আমরা বিকেল ৪টার অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টায় নিয়ে গিয়েছি। ৭টার দিকে জানানো হলো, উপাচার্য অসুস্থ, তিনি চারুকলায় আসতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদেরই অনুষ্ঠান শুরু করতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই যদি অনুষ্ঠান শুরু করতে হয়, তাহলে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম কেন? সময়ের মূল্য কি শুধু উপাচার্য স্যারেরই আছে? তিনি যখন আসবেনই না, তখন কেন শুরুতেই আমাদের জানানো হলো না?’

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নিশাত আনান বলেন, ‘আমাদের সবার মা-বাবা ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে অনুষ্ঠান শেষ করেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের অতিথিদের জন্য আমরা বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা-৮টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আসেননি। ফলে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটিও ঠিকভাবে দেখতে পারেননি।’

শিক্ষার্থী নিশাত আনান আরও বলেন, ‘তাঁরা আসতে পারবেন না—এটি যদি শুরুতেই জানানো হতো, তাহলে আমরা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান শুরু করতে পারতাম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো না।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) মতিয়ার রহমান ও চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ছাড়া প্রশাসনের অন্য কোনো সদস্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

এ বিষয়ে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ নিয়ে ব্যস্ততার কারণেই প্রশাসনের কেউ উপস্থিত হতে পারেননি। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে আয়োজন করেছিল। এ কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ব্যস্ততার কারণেই সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সারাদিন নবীনবরণসহ বিভিন্ন কাজে খুব ব্যস্ত ছিলাম। বিকেলের দিকে যদি ফোন করে বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই যেতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা একটি বিশেষ ধরনের কার্ড দিয়েছিল, যেটি না দেখলে বোঝার উপায় নেই যে সেটি আমন্ত্রণপত্র। কার্ডটি কেউ খেয়ালও করেনি।’

বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিবছর একজন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দেওয়া হলেও ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রদর্শনী এবার একসঙ্গে আয়োজন করায় দুইজন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।