হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯ কোটির ভবনও চক্রের পেটে

রিমন রহমান, রাজশাহী

ফাইল ছবি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য অধিগ্রহণ করা ১২টি স্থাপনা গায়েব হয়ে গেছে। পাকা, আধা পাকা স্থাপনাগুলো নিলামে বিক্রি করা না হলেও সেগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলোর মূল্য প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা।

রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে নগরের সিলিন্দা মৌজায় ২০২৩ সালে ৬৭ দশমিক ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এসব জমিতে থাকা গাছপালা ও স্থাপনাও মূল্য দিয়ে কিনতে হয়। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সেদিকে নজর পড়ে রামেবির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত একটি চক্রের। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই সিন্ডিকেট শুরু করে লুটপাট। এ নিয়ে ৮ জুলাই আজকের পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাতে উঠে আসে, ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা দাম দিয়ে অধিগ্রহণ করা প্রায় ২৫ হাজার গাছের মধ্যে নিলাম হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৪২টির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিগ্রহণ করা জমিতে পাকা দালান ছিল ১২টি। এগুলোর মধ্যে তিনতলা দালান দুটি, দোতলা দালান ছয়টি ও একতলা দালান ছিল তিনটি। এ ছাড়া একটি নির্মাণাধীন দোতলা দালান ছিল। এ ছাড়া আধা পাকা বাড়িঘর ছিল ৭টি। বাড়ি ও প্লট মিলিয়ে ৩৬টি সীমানাপ্রাচীরও ছিল। এগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। বিভিন্ন দাগে বেশ কিছু নলকূপ, গভীর নলকূপ এবং ১০টি সাবমারসিবল পাম্পও ছিল।

কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, অধিগ্রহণের সময় বিভিন্ন অবকাঠামোর জন্য জমির মালিককে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে একটি দোকানঘর, দুটি তিনতলা ভবন, দুটি একতলা ভবন ও একটি দোতলা রেস্তোরাঁ ভবন বিক্রি করা হয়। পরে ১০টি পে অর্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরে ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা করে রেজিস্ট্রারের দপ্তর। সে হিসাবে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাপনার কোনো খোঁজ মিলছে না। সূত্র বলছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে পানির দরে কিছু স্থাপনা নিলামে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাকি স্থাপনাগুলো নিলাম ছাড়াই হজম করেছে একই সিন্ডিকেট।

গত সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় একটিমাত্র দোতলা ভবন আছে। এখন বালু ভরাটের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানান, তাঁরা বালু ভরাট করতে আসার আগেই সীমানাপ্রাচীর অপসারণ করা হয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে নিলামের মাধ্যমে স্থাপনাগুলো বিক্রি শুরু হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাঁরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু হতে দেখেছেন। এ ছাড়া গত বছরের প্রথম দিকেই সীমানাপ্রাচীরের ইটগুলো খুলে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রামেবির উপাচার্য ও ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ৮ মাস আগে যোগদান করেছি। এসব বিষয় আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, ‘অধিগ্রহণ করার সময় টাকা দেওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মালিক আরেকটা ভবন করতে পারে। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে বাস্তবে এত টাকা পাওয়া যায় না। সে জন্যই প্রায় ২০ কোটি টাকার ভবন ২০ লাখে বিক্রি হতে পারে।’

সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে: শিবির সভাপতি সাদ্দাম

রাজশাহীতে অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত

ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনে বাধ্য করার অভিযোগ, আদালতে মামলা

রাজশাহীতে ৮ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি: রেলওয়ে

রাজশাহীতে ছাত্রদলের ১৪ নেতাকে শোকজ

রাজশাহীতে গুজবে জ্বালানি তেল নিতে হুড়োহুড়ি দেখে জরুরি সভা

রাজশাহীতে পাটখেতে নিয়ে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ফের বাইকের লম্বা সারি

বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর লাশ, ঘরে বিষের গন্ধ

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল শুরু