হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাকসু সদস্যদের ব্যঙ্গ করে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

রাবি প্রতিনিধি  

রাবির পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত ‘ভাউচার মেলা’। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে টাকা উত্তোলনের বিপরীতে বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল।

আয়োজকদের ভাষ্য, ‘রাকসু সদস্যরা টাকা উত্তোলন করে ভাউচার জমা দিতে পারছেন না। তাঁদের কারও হিসাব না মিললে এখান থেকে ভাউচার নিয়ে হিসাব মেলাতে পারবেন। তাঁদের সুবিধার জন্যই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহন মার্কেটে আটটি স্টল বসানো হয়েছে। প্রতিটি স্টলে রাকসুর ভিন্ন ভিন্ন কার্যক্রমের সদৃশ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও লেখা দিয়ে ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। স্টলের ব্যানারে ভিপি-জিএস এর নাশতার বিল সম্পর্কিত বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার, সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ ভাউচার, ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টের ভাড়া ভাউচার, কাওয়ালি দলের ভাউচার, বেলচা ক্রয় ভাউচার, নেপাল ট্যুর ভাউচার, রাকসু গেম ভাউচার, ওয়েল ফেয়ার ছাদ ভাড়া ভাউচার প্রভৃতি লেখা হয়েছে।

মূল ফটক দিয়ে মেলার ভেতরে প্রবেশ করতেই একটি টাকার লকার সদৃশ ছবি টাঙানো হয়েছে। যেখানে ‘সবার হিসেব মেলে, আমার হিসেব মেলে না’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে ‘চোর চোর রাকসু ভিপি টাকা চোর’ এমন ব্যঙ্গাত্মক কিছু গান এআই দিয়ে তৈরি বাজানো হচ্ছে।

এই আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এই কর্মসূচি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক, শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী প্রতিবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত এক কোটির বেশি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সেটিই আমাদের প্রশ্নের জায়গা।’

রাহী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এই অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন রাকসু সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত ও বরাদ্দকৃত টাকা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছামতো ব্যবহার করার সুযোগ নেই।’

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটির বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লক্ষ টাকার হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে রাকসু সদস্যদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে বলে শুনেছি। রাকসু সদস্যদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি তার ব্যবস্থা করবে।’

বিজয়-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফৈরদৌস হাসান বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে জেনেছি, রাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাউচার জমা দেননি। এখন যেহেতু তাদের ভাউচার লাগবে, তাই ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাকসু সদস্যদের টাকা উত্তোলন করে ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন বলা হয়, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছেন রাকসুর সদস্যরা। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে রাতেই ক্যাম্পাসে মাইকিং করে ভাউচার মেলার আয়োজনের ঘোষণা দেয় শাখা ছাত্রদল।