রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটে এক নারীর সঙ্গে আটক হওয়া পুলিশের পরিদর্শক মাহবুব আলমকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওই নারীর কোনো অভিযোগ না থাকায় মাহবুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। বিকেলে ওই নারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ওই নারী যদি কোনো অভিযোগ করতেন, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল। তাঁর কোনো অভিযোগ না থাকায় মাহবুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
গাজিউর রহমান জানান, আটক ওই নারীকে মাহবুব আলম তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এর কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা ও দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সাবেক এক স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
বর্তমানে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশ থেকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সেখান থেকে বিনা ছুটিতে রাজশাহীতে এসে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি চারতলা ভবনের দোতলার ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই ফ্ল্যাটে যান আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তাঁর বাড়ি নওগাঁ। আন্নি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা দরজায় ধাক্কা দিলেও মাহবুব আলম ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি বলে জানান আন্নি আক্তার। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভাঙেন। ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ দুজনকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।
আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মাহবুব আলম বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে অভ্যস্ত। ওই নারীর সঙ্গেও তাঁর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। গত চার মাসে তিনবার তাঁদের একসঙ্গে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। মানসম্মানের ভয়ে আগের দুই ঘটনার কথা কাউকে জানাননি।
থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন আন্নি আক্তার। অভিযোগে মাহবুব তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি পুরোনো। এটি তদন্ত করে দেখা হবে। মাহবুব আলমকে নিয়ে রাজশাহীতে যা ঘটেছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। কাউকে না জানিয়েই তিনি রাজশাহীতে গেছেন। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।
মোস্তাক আহমেদ জানান, ‘মাহবুব আলম সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।’