হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী: প্রভাবশালীর দখলে জমি, অন্যের আশ্রয়ে বাবুলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বাবুলাল টুডু যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেই ১৬ কাঠা জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন। তবে দুই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সেখানে বাড়ি বানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাত্রাপুকুর গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকার ৩৬ বছর আগে ভূমিহীন বাবুলাল টুডুকে ১৬ কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেয়। এখন সেখানে একটি দোতলা ও একটি একতলা বাড়ি। এই বাড়ি দুটি বাবুলালের নয়। জমিটা বেদখল হয়েছে। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও জমি ফেরত পাননি তিনি। বাবুলালের আশ্রয় হয়েছে এক আত্মীয়ের জমিতে। সেখানে ছোট তিনটি মাটির ঘরে থাকছে বাবুলালের সাত সদস্যের পরিবার।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহালাল গ্রামে থাকছেন বাবুলাল। আর পাশেই চাত্রাপুকুর গ্রামে তাঁর বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে বাস করছেন প্রভাবশালীরা।

নিজের জমি দখলে পেতে ২০২৩ সালে বাবুলাল তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করেছিলেন। পরে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান জেলা প্রশাসককে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান। এতে বলা হয়, গোদাগাড়ীর চাত্রাপুকুর গ্রামে ১৩৭ নম্বর নন্দাপুর মৌজার ১ নম্বর খাসখতিয়ানভুক্ত ২৯৮ নম্বর দাগের শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ জমি বাবুলাল টুডুকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর নামে কবুলিয়ত দলিল রেজিস্ট্রি করার আদেশ দেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু এ পর্যন্ত বাবুলাল টুডু জমির মালিকানা বুঝে পাননি। এ অবস্থায় গত বছর ফের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাবুলাল টুডু। বিষয়টি আবারও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে গেছে। বাবুলাল টুডু বলেন, ‘আমার কোনো জমি নেই। তাই সরকার এই জমি দিয়েছিল ঘরবাড়ি করতে। কিন্তু জমিতে আমি আসার আগেই তারা বাড়ি করে নেয়। ১৬ কাঠা জায়গা থাকার পরও আমি পরের জমিতে থাকি। আমি আমার জমি চাই। সরকার যেন আমাকে জমিটা বুঝিয়ে দেয়।’

এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য ৯ আগস্ট একজন সার্ভেয়ারকে নন্দাপুরে পাঠান। তিনি নকশা বের করে দেখেন, বাবুলালের জমির দক্ষিণ দিকে শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়ি। এর উত্তরে কিছুটা জায়গা ফাঁকা। তারপর বেনজিন রহমান সুমন নামের আরেক ব্যক্তির বাড়ি। জমিটি নকশা বের করে দেখার সময় বাবুলাল টুডু এবং তাঁর ছেলে সুধীর টুডুও ছিলেন। সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের সঙ্গে তাঁদের দেখে খেপে যান দুই বাড়ির নারীরা।

উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান বলেন, বাবুলালের জায়গা ২৯৮ দাগে অবস্থিত। বন্দোবস্তের পর থেকে জমি বাবুলালের নামেই আছে, কিন্তু এখন দেখছি বেদখল। শহিদুল ইসলাম ও সুমনের পরিবার দখল করে আছে। এটা উচ্ছেদ করতে হবে।

বেনজিন রহমান সুমন বাড়িতে না থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তাঁর চাচা হারুন-অর-রশিদ একটি খতিয়ান বের করে দাবি করেন, এই জমি তাঁর বাবা আমিনউদ্দীনের। তখন সার্ভেয়ার খতিয়ানে দেখিয়ে দেন, আমিনউদ্দীনের জমি ২৯৭ নম্বর দাগে। আর বাড়ি রয়েছে ২৯৮ নম্বর দাগে। এই দাগের জমি বাবুলাল টুডুর।

সুমনের বাড়ির উত্তর দিকেও খাসজমি ফাঁকা পড়ে আছে। এর উত্তরপ্রান্তে বলরাম কর্মকারের বাড়ি। বলরামের স্ত্রী কল্পনা রানী জানান, তাঁদের বাড়িসহ ফাঁকা জায়গাটিও দখলের চেষ্টা করছেন বেনজিন রহমান সুমন। এ জন্য প্রায়ই তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হয়। তাঁরাও উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন এখনো পাইনি। প্রতিবেদনে যদি দেখি বাবুলালের জমিতে অন্য কারও বাড়ি, তাহলে সেটা উচ্ছেদ করতে হবে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে জমি বাবুলালকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’