হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাকসুর ব্যর্থতার দায় কার, শিবিরের পাঁচ দাবি ঘিরে বিতর্ক

রাবি প্রতিনিধি  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ২৪টি ইশতেহার দিয়েছিল শিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পার হলেও এসব ইশতেহারের মূল দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এবার প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। তবে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই শিবির এ কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৩টি পদের বিপরীতে শিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ২০টি পদে জয়লাভ করে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা নিশ্চিত, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা চালু এবং ২০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পার হলেও এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন শাখা ছাত্রশিবিরের নেতারা। দাবিগুলোর মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করার বিষয়টি রয়েছে।

তবে এই সংবাদ সম্মেলনকে রাকসুর ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া আদায়ের মূল প্ল্যাটফর্ম ছিল রাকসু। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, রাকসু আজ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই ছাত্রশিবির এড়াতে পারে না। কারণ, রাকসুর এই ব্যর্থতার ভার তাদের ওপরও সমানভাবে বর্তায়।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই তারা সংবাদ সম্মেলন করেছে। এর মাধ্যমে তারা রাকসুর ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে নিজেদের রাকসু থেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।’

শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘১২ মাসে ২৪টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবার একই দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে আসা স্পষ্ট প্রতারণা।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং রাকসুকে ব্যবহার করে শিবির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও আর্থিক অনিয়ম করেছে।’

তবে রাকসু নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করেও দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাকসু প্রশাসনকে চাপ দেওয়ার পরও যেহেতু দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি, তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সেভাবে স্পষ্ট হতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা নিজেদের ব্যানারে সরাসরি প্রশাসনের কাছে এই দাবিগুলো তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ আবাসন ও আবাসন ভাতার বিষয়টি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। আমরা এটি আদায়ের সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। রাকসু প্রতিনিধিরা তাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন হাউস ও বডিতে এগুলো উত্থাপন ও আলোচনা করেছে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ কোনো ফলাফল আসেনি।’

এদিকে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এসব ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনের বাধাকে দায়ী করছেন।

ভিপি জাহিদ বলেন, ‘বড় প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের নানা বাধা রয়েছে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা আমাকে ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে, আমি তাদের প্রতি আন্তরিক নই। কিন্তু আমি তাদের সমস্যার কথা শুনতে চাই। আমি সমস্যা দেখলে কখনো পেছনে যাই না।’

উপাচার্য বলেন, ‘প্রশাসন ও রাকসু দুটি পৃথক সত্তা। উভয়েই নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে কাজ করে। শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব তবে এটি স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’