হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সেনাসদস্য রিফাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে সমাহিত নিহত সেনাসদস্য রিফাত। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীতে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাত। আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় স্থানীয় কবরস্থানে রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়।

তিন বছর আগে ক্যানসারে মারা যাওয়া মায়ের কবরের পাশেই শেষ ঠিকানা হলো ২৮ বছরের এই তরুণ সেনাসদস্যের।

সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। সেনানিবাস থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হয় পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে তাঁর জন্মস্থান ও বাড়িতে।

বেলা ১টায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন, প্রতিবেশী ও আশপাশের গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো রিফাতকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন। উঠান, বারান্দা ও ঘরের দরজায় ছিল মানুষের ভিড়।

বাবা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলাম ছেলের মরদেহের পাশে নির্বাক বসে ছিলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা জানা নেই কারও।

চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। স্বজনদের ভাষ্য, শান্ত স্বভাবের রিফাত সবার প্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দেন তিনি।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। কর্মস্থলের দায়িত্বের কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

জানাজায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলাম। ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আমার আত্মীয়স্বজন আছে। রিফাতের বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠীরা আছে। রিফাত সবার সঙ্গে চলাফেরা করেছে। একটা মানুষের ভুলের শেষ নেই। চলতে গেলে ভুল হয়ে যায়। অজান্তেই ভুল হয়। যাঁরা উপস্থিত আছেন, যাঁরা উপস্থিত নেই—দয়া করে তার সব ভুল মাফ করে দেবেন। নিজের ছেলে, নিজের ভাই, বন্ধু মনে করে দয়া করে ক্ষমা করবেন।’

জানাজার আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিফাত ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি সৈনিক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। মোট ৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন কর্মরত ছিলেন তিনি।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।