পাঁচ মামলায় আদালতে সাজা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি আছে। তারপরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক যুবদল নেতা। তাঁর নাম শাহীন আলম। তিনি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক। এরই মধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর মোহনপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের পাশে তাঁকে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই কি পুলিশ শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করছে না।
নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ঋণ পরিশোধ না করার কারণে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলাগুলো করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একটি মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক শাহীন আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।
যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের আরেক মামলায় (মামলা নম্বর ২৯৮/১৮) তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জেলা যুগ্ম জজ প্রথম আদালতের আরেক মামলায় (মামলা নম্বর ৮১৮/২০) শাহীন আলমের ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৩৪১ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪-এর একটি মামলায় (মামলা নম্বর ৮০৫/২০) শাহীন আলমের ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৬ টাকা অর্থদণ্ড হয়েছে। মোহনপুর থানার আরেক হত্যাচেষ্টার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নানা তদবিরে যুবদল নেতা শাহীন আলম মাঝে মাঝে মোহনপুর থানায় যান। ওসির টেবিলে আড্ডা দেন, চা খান। কিন্তু পুলিশ তাঁকে ধরে না। জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এগুলো সঠিক না। আমরা শাহীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা শাহীন আলমের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকের পাওনা টাকার অর্ধেক তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
জামিনে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।