হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রাবাসে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 

সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী লেবানন বমকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী লেবানন বমকে গলা চেপে হত্যাচেষ্টা, ইট দিয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ছাত্রাবাসের বাসিন্দা হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়ার ‘শুভ ভিলা’ নামের একটি ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন।

অভিযোগকারী লেবানন বম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওই ছাত্রাবাসের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

অভিযুক্ত হাসানুজ্জামানের পিতা মৃত দুলাল মিয়া। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে। তিনিও ওই ছাত্রাবাসে ভাড়া থাকেন।

মামলার এজাহারে লেবানন বম অভিযোগ করেন, বাথরুম পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসানুজ্জামান তাঁর কক্ষে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে শান্ত হতে বললে তিনি আরও মারমুখী হয়ে তাঁর গলা চেপে ধরেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, কোনোভাবে গলা থেকে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার পর হাসানুজ্জামান সেখানে পড়ে থাকা একটি ইট দিয়ে তাঁর পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী লেবানন বমকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

লেবানন বম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওসল চাকমা বলেন, বাথরুম অপরিষ্কার থাকার বিষয় নিয়ে প্রথমে হাসানুজ্জামানের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করে কক্ষে চলে যান। পরে লেবানন বমের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি শুরু হলে দুজনকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাসানুজ্জামান লেবানন বমকে মারধর করেন এবং ইট দিয়ে আঘাত করেন।

ওসল চাকমা বলেন, লেবানন বমকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন, তিনি একজন বহিরাগত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব নিয়মে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’