রাজশাহীর দুর্গাপুরে এক কীটনাশক বিক্রেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে অভিযানের খবর পেয়ে কীটনাশক বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আজ শুক্রবার দুপুরে এসব সার উপজেলার কিসমত গণকৈড় এলাকায় কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দিকে কিসমত গণকৈড় এলাকার আড়ইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
পলাতক সাইদুল ইসলাম (৪৫) আড়ইল গ্রামের মৃত লছির আলীর ছেলে। জেলার পুঠিয়া উপজেলার কার্ত্তিকপাড়া বাজারে তাঁর একটি কীটনাশকের দোকান রয়েছে।
পুলিশ ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাইদুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করে বেশি দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন। খবর পেয়ে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া, ১০০ বস্তা টিএসপি ও ৩২৪ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সাইদুল পালিয়ে যান।
স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, আগে সারের সংকট ছিল না। বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় সার মজুত করে কৃষকদের বেকায়দায় ফেলছে। আমরা ঘুরে ঘুরে সার পাচ্ছি না অথচ একজন কীটনাশক বিক্রেতার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুত। এদের মতো লোকের কারণে এলাকায় সারের সংকট দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, অভিযুক্ত সাইদুল লাইসেন্সধারী সার বা কীটনাশক বিক্রেতা নন। তাঁর কীটনাশক দোকান আছে। জব্দ করা সার কৃষকের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। সার বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী উম্মে হাবিবা জানান, অভিযুক্ত সাইদুলকে আটক করা না গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।