রাজশাহীর পবা উপজেলায় বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাসুয়ার আঘাতে মো. ইদ্রিস আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই আবু বকর সিদ্দিক (৫০) আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আবু বকরের ছেলে মো. আলফাজকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ইদ্রিস আলী ও আবু বকর সিদ্দিককে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জমিতে কাজ করছিলেন আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর ছেলে আলফাজ। এ সময় বাবার সামনে ছেলে আলফাজের বিড়ি ধরানোকে কেন্দ্র করে আবু বকর তাঁকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. আক্তার ও মেরাজ তাঁদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে আবু বকরের ভাই ইদ্রিস আলী তাঁদের থামাতে যান। এ সময় আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তাঁর বাবা আবু বকর ও চাচা ইদ্রিস গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. আক্তার বলেন, প্রথম দফায় ঝগড়া থামিয়ে বাবা-ছেলেকে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলেন তাঁরা। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তাঁদের থামাতে এগিয়ে যান। তখন আলফাজের হাসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আলফাজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। গত রোববার জামিনে বাড়ি ফেরেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তিরও অভিযোগ রয়েছে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা আলফাজকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য ইদ্রিস আলীর মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আলফাজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা রেকর্ড হলে তাঁকে আদালতে তোলা হবে।