হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাজশাহীতে তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ছবি: সংগৃহীত

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহীতে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ বিষয়ে বুধবার প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

রাজশাহী শহরসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। সেখানেও লোডশেডিং চলছে। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবীন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৪টি উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, নেসকোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজশাহী শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। সে সময় সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে দিনে-রাতে মহানগরীতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।

নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ২৮ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবারও একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। কোনো সময়ে চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও অন্য সময়ে ঘাটতি দেখা দেয়। তবে মহানগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।’