চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস তাঁর বরখাস্তের আদেশে সই করেন।
এদিকে আজ দুপুরেই জাকিরসহ দুই আসামিকে আদালতে তোলে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক তাঁদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আগামী মঙ্গলবার রিমান্ডের শুনানি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একরামুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার অপর আসামি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার হলেও সদ্য বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল জাকির ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেননি। আগামী মঙ্গলবার আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি আছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে অবশিষ্ট সোনা উদ্ধারে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে জাকির হোসেনের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানে জেলা পুলিশ, সদর থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দুর্গাপুর থানা-পুলিশও অংশ নেয়। তবে তাঁর বাড়িতে সোনা পাওয়া যায়নি।
বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল জাকির চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই করেন তিনি।
গলিত অবস্থায় থাকা ওই ৪০ ভরি সোনা রাজশাহী থেকে এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন ব্যবসায়ী নিঝুম। রাজশাহী থেকে ওই সোনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু। মোহাম্মদ আলী সোনার চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে সেখানে হাজির হন কনস্টেবল জাকিরসহ দুজন। পরে পুলিশ পরিচয়ে তাঁরা ওই সোনা নিয়ে চলে যান। এরপর এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান কনস্টেবল জাকির হোসেন। ছুটি শেষে কয়েক দিন আগে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। পরে এই সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনা জানাজানি হলে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
এরই মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কনস্টেবল জাকির, দুলাভাই মোহাম্মদ আলীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। পরে রাতেই পুলিশ লাইনস থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া চকআলমপুর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। মোহাম্মদ আলী পুলিশকে এই সোনা দেওয়ার সময় জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ২০ ভরি সোনা আছে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে। তিনিই সোনার চালানটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে জানিয়েছিলেন।
সোনা হস্তান্তরের পর জাকির অভিযানের নামে ওই সোনা ছিনিয়ে নেন। পরে ৪০ ভরি সোনা তাঁরা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। তবে কনস্টেবল জাকির এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। বের করে দেননি তাঁর হেফাজতে থাকা অবশিষ্ট ২০ ভরি সোনা।