বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রাজশাহীতে স্কুলপর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এ আয়োজনে মহানগরীর ৪৯টি স্কুলের ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং বইপড়ার গুরুত্ব নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, অভিনেতা, লেখক ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ, বাংলাদেশি পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রাজশাহীর সাবেক সংগঠক আহামেদ শফিউদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. আবদুর রশিদ, গ্রামীণফোনের রাজশাহী সার্কেলের প্রযুক্তি প্রধান নন্দন কুমার সাহা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
আয়োজকেরা জানান, ৪৯টি স্কুলের ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ জনকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়। বাকি ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৩ জন ছেলে এবং ১ হাজার ৭০৭ জন মেয়ে।
এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোরেরা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে।
অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন নিরাপত্তা কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এ উৎসবের সার্বিক আয়োজন এবং পুরস্কারের বই গ্রামীণফোনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়।