হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

হল ত্যাগের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্রদল নেতার অবস্থান

রাবি প্রতিনিধি 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলে সিট বাতিলের নির্দেশ পাওয়ার পরও এক ছাত্রদল নেতার হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হল ত্যাগ করার কথা থাকলেও তিনি এখনো হলে অবস্থান করছেন।

অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, নিশাতকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে গত ২ জুলাই হল প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ দেওয়া হয়। এতে তার সিট বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তার ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে হলে তার ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে ড্রপআউট হিসেবে বিবেচনা করে সিট বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের সব বকেয়া পরিশোধ করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিশাতকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে গত ২ জুলাই হল প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষায় পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন নিশাত। পরের বছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পরবর্তী বছর আবারও অকৃতকার্য হন তিনি। এ কারণে তিনি ড্রপআউট হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে হলে অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বলেন, ‘আমার ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রাধ্যক্ষের কাছে আমি কিছুদিন সময় চেয়েছিলাম। তিনি সময় দিয়েছেন। যেহেতু এখনো নতুন করে আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই অ্যালটমেন্ট পর্যন্ত হয়তো থাকার সুযোগ থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে যদি আমি ছাত্রত্ব ফিরে পাই, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আর যদি না পাই, তাহলে হয়তো হল ছেড়ে চলে যেতে হবে। বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে হলে থাকা বা হল দখল করে রাখার মতো নয়।’

এ বিষয়ে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি যখন তার সিট বাতিল করে দিই, তখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। আমার কাছেও কিছু সময় চেয়েছিল। আমি তাকে ওই সময় দিয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে সে এখনো ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছে কি না, সেটি আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তার ছাত্রত্ব ফিরে না এলে ওই সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’