রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় রাকসু ও শিবিরের ‘বিরুদ্ধে’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাকসু ভবনে ভিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুমকি দেন।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলা চালান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এরপর সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কয়েক দফায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সাবেক সভাপতি ও রাকসু ভিপি জাহিদ বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো সংঘর্ষের ঘটনাকে একপক্ষীয় প্রচার করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাকে ছাত্রলীগের পক্ষে উপস্থাপন করেছে বলেও দাবি করেন এই নেতা।
ভিপি জাহিদ এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সংবাদে যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। গতকাল অনেকেই এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, যাতে ছাত্রলীগকে ডিফেন্ড করা হয়েছে। এখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁরা এ ধরনের সংবাদ করেছেন, আমরা সেগুলো সংগ্রহ করছি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।’
এ সময় রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জানেন, শব্দ দিয়ে মানুষকে যেমন তৈরি করা যায়, তেমনি ধ্বংসও করা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যেটাকে প্রতিরোধ বলছি, সেটিকে আপনারা প্রতিরোধ হিসেবে দেখতে পারছেন না কেন?’
ছাত্রদলের সমালোচনা করে আম্মার বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের প্রতিও ধিক্কার জানাই। যে ব্যক্তি একসময় জামায়াত-শিবিরবিরোধী নোটিশ দিয়েছে, সেই ব্যক্তি এখন ছাত্রদল করছে এবং ছাত্রদল তাকে আশ্রয় দিচ্ছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট এবং ছাত্র ফেডারেশন। গত সোমবার রাতে দুটি পৃথক বিবৃতিতে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রক্টর অফিস ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রাকসু নেতা ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ‘মব ভায়োলেন্স’ চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতরে প্রকাশ্যে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের চিত্র হতে পারে না।
এদিকে পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন জানায়, একটি তদন্তাধীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে যে ‘মব ভায়োলেন্স’ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।