হোম > সারা দেশ > রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বস্তাবন্দী অবস্থায় চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪) ও মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।

পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন রোহানের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি। আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে একটি ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি কালো টি-শার্ট। দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা-পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।