হোম > সারা দেশ > রাজবাড়ী

রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট, গ্রেপ্তার ১

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 

স্বর্ণালংকারসহ আটক খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজবাড়ীর পাংশায় সোনার দোকানের মালিক শহিদুল ইসলামকে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সোনা, রুপা ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর থেকে লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার মধ্যপাড়া এলাকা থেকে লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন আজ এসব তথ্য জানান। পুলিশ সুপার বলেন, দোকানের কর্মচারী লিটনসহ দুজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পিতভাবে দোকানমালিককে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দোকানের চাবি নেওয়া হয়। পরে দোকান থেকে সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।

পাংশার নারায়ণপুর শাখিনন্দ দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নিউ মুসলিম জুয়েলার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় দোকান থেকে সোনা ও রুপার অলংকার এবং নগদ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে লিটনসহ দুই আসামি শহিদুল ইসলামকে জলিলপাড়া এলাকায় লিটনের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় শহিদুল ইসলামকে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর শহিদুল ইসলামের পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে আসেন। অপর কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার আনতে পাঠিয়ে আলমারি খুলে সোনা ও রুপার অলংকার এবং নগদ টাকা নেওয়া হয়। পরে দোকানের চাবি আবার শহিদুল ইসলামের পকেটে রেখে তাঁকে দত্ত মার্কেটের মোড়ে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য, চুরি হওয়া সোনার পরিমাণ ২৫ ভরি, রুপা ২২০ ভরি ও নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লিটনের অবস্থান শনাক্ত করে পাংশা থানা-পুলিশ গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেখানোমতে পুলিশ ১৫ ভরি ও ১ দশমিক ৫৮ আনা সোনা এবং ২২০ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার ও রুপার মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

উদ্ধার করা অলংকার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।