পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মাহমুদকাঠী গ্রামে এক বিধবা নারীর জমি দখল ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে আক্তার হোসেন নামের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মৃত আবুল বাশারের স্ত্রী সালেহা পারভীন ও তাঁর ছেলে-মেয়েরা সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেছেন। পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২০১১ সালে মাহমুদকাঠী বাজারের পাশে আবুল বাশার ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি কেনেন। পরে ওই জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। কয়েক মাসের মধ্যে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এক রাতে ঘরের দরজা উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক জমিটি দখলে নেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে আবুল বাশার স্থানীয় আমজেদ আলীর ছেলে লিটনের কাছ থেকে মাহমুদকাঠী এলাকায় ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে তিনি একটি বসতঘর নির্মাণ করেন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপণ করেন। পরে ঘরটি ভাড়া দেন। একই সময়ে আক্তার হোসেন একই মালিকপক্ষের বড় ভাই জবেদের কাছ থেকে পৃথক অংশে সমপরিমাণ, অর্থাৎ ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জমি ক্রয়ের সময় আক্তার হোসেন তাঁর দলিলে আবুল বাশারের জমির দাগ উল্লেখ করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ জটিলতা নিরসন ও আক্তার হোসেনের দলিল বাতিলের দাবিতে আবুল বাশার আদালতে একটি মামলাও করেছিলেন।
আবুল বাশারের পরিবারের দাবি, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আক্তার হোসেন তাঁর শ্বশুর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ এম এ শাহ আলমের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জোরপূর্বক নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
ভুক্তভোগীর মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর বাবাকে চরম হেনস্তা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালে সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তি তাঁর বাবাকে তুলে নিয়ে যায়, পরে তাঁর খোঁজ মেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। স্থানীয়ভাবে এ বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং আবুল বাশারের পক্ষে কথা বলেছিলেন—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আক্তার হোসেন মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আক্তার হোসেনের হয়রানিতে তিন বছর আগে তাঁর বাবা আবুল বাশারের মৃত্যু হয়েছে।
আবুল বাশারের বাড়ির সাবেক ভাড়াটে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ওই ঘরে সপরিবারে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলাম। কিন্তু আকস্মিকভাবে এক রাতে পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
পরিবারটির অভিযোগ, তাঁদের পক্ষে কেউ কথা বললেও আক্তার হোসেন ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তাঁকে হয়রানি করেন। পরিবারটি মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, ‘জমিটি নিয়ে মামলা চলছে। ওদের জমি পাশের আলাউদ্দীনের জমির ভেতরে চলে গেছে। সেই জমি আলাউদ্দীনের নামেই রেকর্ড হইছে। আমি কারও জমি দখল করিনি। তারা আমার নিকট জমি পাবে না। বাকি সব অভিযোগ মিথ্যা।’