হোম > সারা দেশ > পিরোজপুর

অধ্যক্ষের বিরোধে বন্ধ পাঠদান, ৮ বছর পর খুলল কলেজের তালা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মামলার জট কাটিয়ে দীর্ঘ আট বছর পর তালা খুলল কলেজের। ছবি: আজকের পত্রিকা

অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি মামলা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঝিলবাড়ী কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গতকাল বুধবার কলেজটির তালা খুলে অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানের কাছে চাবি ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এরপরই অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ জটিল আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে বিষয়টি পাল্টাপাল্টি মামলায় গড়ায়। এতে প্রায় ৮ বছর ধরে বন্ধ থাকে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম।

দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা। আশপাশে বিকল্প উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে দূরের কলেজে যেতে হয়। কেউ কেউ উচ্চশিক্ষা থেকেও ঝরে পড়েন।

অধ্যক্ষ পদ ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন মো. আসাদুজ্জামান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। পরে বিবাদী পক্ষের মো. কামরুল ইসলাম আপিল করলেও উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের সহযোগিতায় গতকাল বুধবার কলেজটির তালা খুলে অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানের কাছে চাবি ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

কলেজের সামনে অধ্যক্ষসহ স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, সাবেক এমপি শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেছিলেন। অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর আবার কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহমেদ, মাসুদ পারভেজসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কলেজের শিক্ষকেরা বক্তব্য দেন।

দায়িত্ব ও চাবি বুঝে পাওয়ার পর অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কলেজটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।’

তিনি কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

কলেজটি পুনরায় চালুর খবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, চলতি বছরেই নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। দীর্ঘদিনের জটিলতার পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আবারও উন্মুক্ত হবে।