স্ত্রী, দুই ছেলে ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে শাকিলের সংসার। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে অটোগাড়ি নিয়ে বের হন তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার, পরিশোধ করেন ঋণের কিস্তি। কিন্তু কয়েক মিনিটের জন্য আসর নামাজ পড়তে গিয়ে সেই অটোগাড়িটিই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এখন গাড়ির সঙ্গে যেন তাঁর পরিবারের আয়ের পথটিও হারিয়ে গেছে।
গত রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ মসজিদের পাশে সড়কে অটোগাড়িটি রেখে আসর নামাজ পড়তে যান শাকিল। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন, গাড়িটি সেখানে নেই। আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান পাননি তিনি। তাঁর ধারণা, সুযোগ বুঝে চোরেরা গাড়িটি নিয়ে গেছে।
শাকিলের বাড়ি নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ স্বরূপকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি ওই গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে অটোগাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। গাড়ি কেনার এক বছর পর ব্যাটারিতে সমস্যা দেখা দিলে নতুন ব্যাটারি কিনতেও ঋণ নিতে হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে।
অটোগাড়িটিই ছিল শাকিলের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। প্রতিদিন ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কখনো দুপুরে অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে গিয়ে খাবার খেতেন। এরপর আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করেই সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন তিনি।
শাকিলের এক ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে, অন্যজন এখনো ছোট। পাশাপাশি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও তাঁর ওপর। ফলে অটোগাড়িটি চুরি যাওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন পুরো পরিবার।
শাকিল বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়িটি কিনেছিলাম। গাড়ি চালিয়ে কিস্তি দিতাম, সংসারও চালাতাম। এখনো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। গাড়ি হারিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে কিস্তি দেব, কীভাবে সংসার চালাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘গাড়ি চালানোর সময় নামাজের ওয়াক্ত হলে আমি গাড়ি থামিয়ে আশপাশের কোনো মসজিদে নামাজ পড়ি। গত রোববারও উপজেলা পরিষদ মসজিদের পাশে গাড়ি রেখে আসর নামাজ পড়তে যাই। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি, গাড়িটি নেই।’
গাড়ি হারানোর পর থেকেই সেটির সন্ধানে পথে পথে ঘুরছেন শাকিল। কখনো থানায়, কখনো স্বরূপকাঠি পৌরসভায় গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে গাড়িটি নিয়ে যাওয়ার কোনো দৃশ্য ধরা পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি।
শাকিল বলেন, ‘গাড়ি হারানোর পর থেকেই থানায় আর পৌরসভায় যাচ্ছি। পৌরসভায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার জন্যও যাচ্ছি। যদি গাড়িটা ফিরে পাই, তাহলে আমার সংসারটা আবার চলবে।’
নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দীন ব্যাপারী জানান, অটোগাড়ি হারানোর ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।