মাত্র চারটি সুপারি চারা খাওয়ার অভিযোগে দুটি ছাগলের পা বেঁধে খালে ফেলে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিতে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানি গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
গতকাল রোববার বিকেলে এ ঘটনার পর বিচার চেয়ে মৃত ছাগল দুটি সঙ্গে নিয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র কৃষক সেলিম হাওলাদার।
কৃষক সেলিমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের সরকারি রাস্তার পাশে স্থানীয় সুনীল হালদারের একটি সুপারি চারা বাগান ছিল। সকালে ছাগল ঘরে রেখে খাবার সংগ্রহ করতে যান সেলিম। দুপুরে ফিরে এসে ছাগল না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের খালে চার পা বাঁধা অবস্থায় ছাগলগুলোকে ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হলে দেখা যায় দুটি ছাগল মারা গেছে এবং অপরটি মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, এই ছাগলগুলোই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। চারটি সুপারি চারা খাওয়ায় আমার ছাগলগুলোকে এভাবে পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হলো। প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকেও ছাগলের মতো অবস্থা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. শাহাদাৎ বলেন, সেলিম খুবই দরিদ্র মানুষ। তাঁর তিনটি ছাগল ছিল। ছাগলগুলো সুনীলের চারটি সুপারি চারা খাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এতে দুইটি ছাগল মারা গেছে এবং অপরটিও মৃতপ্রায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল গাজী বলেন, সেলিম হাওলাদার অত্যন্ত গরিব। তাঁর তিনটি ছাগল ছিল। সুপারি চারা নষ্ট করার অভিযোগে ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে দুটি ছাগল মারা গেছে এবং অপরটি মৃতপ্রায়।
তবে ছাগল হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুনীল হালদার। তিনি বলেন, ‘ছাগলগুলো আমার সুপারি চারা খেয়েছে। আমি ছাগল তাড়িয়ে দিয়েছি। আমি মারিনি।’
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’