হোম > সারা দেশ > পিরোজপুর

চুরি-ডাকাতির অভিযোগ: বাবা-ছেলেকে পরিবারসহ এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 

গতকাল বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার জগৎপট্টি এলাকায় তিন গ্রামের ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের জানমাল রক্ষার দাবিতে স্থানীয় সালিসে অভিযুক্ত মো. রফিক হাওলাদার, তাঁর ছেলে নাইম ও তাঁদের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন জগৎপট্টি, জগন্নাথকাঠি ও শর্ষিনা গ্রামের বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার জগৎপট্টি এলাকায় তিন গ্রামের ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, মাস্টার আতিকুল ইসলাম, আনিসুর রহমান বাদলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিসে রফিক হাওলাদারকে পরিবারসহ এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে তিনি তা মেনে নিয়ে সময় চান। পরে তাঁকে কয়েক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক হাওলাদার ও তাঁর ছেলে নাইম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে শর্ষিনা গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়িতে দিনের বেলায় ডাকাতির অভিযোগ ওঠে নাইমের বিরুদ্ধে। এ সময় ইলিয়াসের স্ত্রী নাজমা, ৯ বছরের মেয়ে ও প্রতিবেশী মুইনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নাইম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও চুরির ঘটনায় নাইম গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় তিনি চুরি-ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। জগৎপট্টি, জগন্নাথকাঠি ও শর্ষিনা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিক হাওলাদার প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে জগৎপট্টি এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর মূল বাড়ি উজিরপুরের মিরেরহাট এলাকায়। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি শ্বশুরবাড়ির এলাকায় এসে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বালু বহনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি রফিক বালু ও ইট চুরির সঙ্গেও জড়িত। তাঁদের দাবি, চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে অল্প সময়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের জমি, তিনতলা ফাউন্ডেশন করা একতলা বাড়ি, টমটম ও ভ্যানগাড়ি রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রফিক হাওলাদার জানান, তাঁর ছেলে নাইম শর্ষিনা গ্রামের ইলিয়াসের বাড়িতে ঢুকে যে ঘটনা ঘটিয়েছে, এমন কাজ ডাকাতেরাও করে না। এর আগেও তাঁর ছেলে এলাকায় চুরি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এ কারণে এলাকাবাসী সালিস বসিয়ে তাঁকে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

রফিক হাওলাদার জানান, সালিসে তিনি এক বছর সময় চেয়েছিলেন। পরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাঁকে ছয় মাসের সময় দিয়েছেন। স্থানীয়দের বুঝিয়ে থাকতে পারলে তিনি জগৎপট্টিতেই থাকবেন।

নিজের সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘আমি শ্রমিকের কাজ করে পরিশ্রমের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করেছি এবং সেই অর্থ দিয়েই জমি ও বাড়ি করেছি।’

সালিসের প্রধান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, বাবা-ছেলের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী আতঙ্কিত। তাঁর ছেলে ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। তাই তিন গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে তাঁদের এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, তাঁরা কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে চান না। তবে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের জানমাল রক্ষায় তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে গ্রামে কোনো চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলে যাতে তাঁদের নিয়ে নতুন করে অভিযোগ না ওঠে, সে জন্যই পরিবারটিকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।